image
ছবি: ঢাকা টাইম

রোজার পরে দেশের বাজারে কড়া ঝাঁঝ ছড়ায় পেঁয়াজ। ১০০-১২০ পর্যন্ত ওঠে নিত্যপ্রয়োজীয় মসলা পণ্যটির দাম। লাগাম টানতে আমাদানি হলেও এর প্রভাব পড়েনি তেমন। এখনো ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি পেঁয়াজ। ‘পেঁয়াজসূত্রে’ বাজার কাঁপাচ্ছে কাঁচামরিচও। ভারত থেকে পণ্যটির আমাদানি শুরু পর ১০০ টাকায় বিক্রি হতে থাকা কাঁচামরিচ ২০০-২৫০ নামলেও পেয়াজের মতোই ফের বাড়তে থাকে দাম, এখন যা ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের এক সপ্তাহ পর শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি, মাছ, মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন। গত পাঁচ দিন আগেও রাজধানীতে কাঁচামরিচের কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে গত রবিবার ভারত থেকে ৬০ টন কাঁচামরিচ আমদানির পর এক ধাক্কায় সোমবার ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু মঙ্গলবার থেকেই আবার ঊধ্বমুখী হতে থাকে। ওইদিন বিক্রি হয় ৩৫০ টাকা। এরর পর বুধবার ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা কাঁচামরিচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা ও দেশি কাঁচামরিচ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া টমেটোর কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, করলা ১১০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০
টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, উস্তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, আলু ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা ও লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, জালি কুমড়া ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা রসিদ মিয়া ঢাকা টাইমসকে বলেন, কাঁচামরিচ তো আমাদের নিজেদেরই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আর সবজির মৌসুম না থাকায় বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতারাও অসহায়। বড় ব্যবসায়ীদের ধরে কঠিন শাস্তি দেওয়া হলে বড় বড় সিন্ডিকেট বের করা সম্ভব হবে।’

শান্তিনগর বাজারে সবজি কিনতে আসা জামাল হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, সিন্ডিকেট বাজারে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। বাজারে শুধু কাঁচামরিচ না! নিত্যপন্যসহ সবকিছুর দাম অতিরিক্ত। সরকার থেকে কি যে পদক্ষেপ নিচ্ছে বুঝা মুশকিল। মানুষের এখন একটাই দাবি, বাজারে নিত্যপণ্যসহ সবকিছুর দাম যেন নাগালের মধ্যে চলে আসে।’

অন্যদিকে পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ছিল।

রামপুরা এলাকার পেঁয়াজ বিক্রেতা মিলন আহমেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যেই ওঠানামা করছে। পাইকারি ৭০ টাকায় কিনলে ৮০ টাকা বিক্রি করতে হয়। ভারতীয় আমদানি করা পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকয় বিক্রি করছি।’

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি আকার ভেদে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, রুই ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, পাঙ্গাস ২২০ টাকা, কৈ মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা, ছোট ইলিশ ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা বাজারের মাছ বিক্রেতা আকাশ মিয়া ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মাছ গত সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

রামপুরা বাজারে মাছ কিনতে আসা ফরিদুল ইসলাম ফরিদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ঈদে গরুর মাংস খেয়ে বিরক্ত। ফলে মাছের চাহিদা বেড়েছে। আর ব্যবসায়ীরাও মাছের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।’

বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসি ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের লাল ডিম প্রতিটি ১৩ টাকা, হালি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ও ডজন ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদি দোকানে ঘুরে দেখা গেছে, এলাচের দাম চার হাজার টাকা কেজি, জিরা ৯০০ টাকা, ধনিয়া ২২০ টাকা, লবঙ্গ এক হাজার ৮০০ টাকা, দারুচিনি ৬৫০ টাকা, তেজপাতা ২৫০ টাকা, গুঁড়া মরিচ ২৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করছি। আমাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের কমতি নেই। আমরা যথাযথভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

(ঢাকাটাইমস/০৭জুলাই/পিআর/এফএ)


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।