ছবি: নয়া দিগন্ত


নওয়াব আব্দুল লতিফ ছিলেন উনিশ শতকের অন্যতম বাঙালি মুসলিম নেতা। তিনি ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁ ও আধুনিকতার অগ্রদূত এবং বাংলার মুসলমানদের নবজাগরণের একজন স্থপতি।
১৮২৮ সালে তিনি ফরিদপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন কলকাতার একজন স্বনামধন্য আইনজীবী। আব্দুল লতিফ কলকাতা মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। কর্মজীবন শুরু হয় ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক হিসেবে। পরবর্তী সময়ে তিনি কলকাতা মাদরাসার ইংরেজি ও আরবির অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৮৪৯ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৮৭৭ সালে প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত হয়েছিলেন। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে দরিদ্র নীলচাষিদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। ১৮৬০ সালে নীল কমিশন গঠনেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। স্বধর্মীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি মমত্ববোধ, প্রশাসনিক কাজে দক্ষতা এবং জনহিতকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৬২ সালে তাকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের প্রথম মুসলিম সদস্য মনোনীত করা হয়। পরের বছরেই তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন।
নওয়াব আব্দুল লতিফের প্রধান অবদান ছিল শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন যে, মুসলিম যুবকদের আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষাবিস্তারে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি নিরলস সংগ্রামে অবতীর্ণ হলেন। ১৮৬৩ সালে ‘কলকাতা মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষা এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সপক্ষে জনমত গড়ে তোলেন। কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় ইঙ্গ-ফারসি বিভাগ খোলা এবং সেখানে উর্দু ও বাংলা ভাষা শিক্ষাদানের লক্ষ্যে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্য।
আব্দুল লতিফ রাজনীতিতেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার অক্লান্ত চেষ্টার ফলেই হুগলির মহসিন ফান্ডের টাকা মুসলমানদের শিক্ষা বিস্তারের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। তিনি ছিলেন উদারপন্থী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। আব্দুল লতিফ ১৮৭৭ সালে খান বাহাদুর এবং ১৮৮০ সালে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত হন। ১৮৮৩ সালে সিআইই উপাধি পান। ১৮৮৭ সালে উচ্চতর সম্মানের প্রতীক নওয়াব বাহাদুর খেতাবে ভূষিত হন। ১৮৮৪ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই নওয়াব আব্দুল লতিফ ইন্তেকাল করেন।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।