Juliyan Mur samakal fdcda
ছবি: সমকাল

বিনোদন জগতে টিকে থাকতে হলে, বিশেষ করে সিনেজগতে নিজের অস্তিত্ব সদর্পে জানান দিতে হলে রূপ-লাবণ্যের পাশাপাশি একজন অভিনেত্রীকে হতে হয় কুশলী। কেউ কেউ হঠাৎ করে এই জগতে এসেই রাতারাতি দু-চারটি হিট সিনেমা উপহার দিয়ে আবার হারিয়ে যান। এর ভূরি ভূরি উদাহরণ দেওয়া যায় কোনো রকম জড়তা ছাড়াই। তবে কেউ কেউ নিজের রূপের ঝলকানির পাশাপাশি অভিনয় দক্ষতা, কর্মচঞ্চলতা, সিনেমার প্রতি ভালোবাসা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকেন বছরের পর বছর। তেমনি একজন আমেরিকান চিরযৌবনা অভিনেত্রী জুলিয়ান মুর। যিনি নিজ কর্মগুণে আর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে বছরের পর বছর আলোকিত করে রেখেছেন বলিউড দুনিয়া। এমনকি বেশকিছু সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন আইকন।

বয়স তাঁর প্রায় ৬২। কৈশোর, তারুণ্য পেরিয়েছেন আগেই। তবে শেষ হয়নি তাঁর ঝলক। জুলিয়ান মুরের সদর্প পদচারণা সিনেজগতের প্রায় প্রতিটি শাখায়। জুলিয়ান মুর পাঁচবার একাডেমি, ৯ বার গোল্ডেন গ্লোব, সাতবার স্ট্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড ও চারবার বাফটা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। এর মধ্যে তিনি একবার একাডেমি পুরস্কার, দু’বার গোল্ডেন গ্লোব, দু’বার স্ট্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়াও একবার প্রাইমটাইম এমি ও একবার ডেটাইম এমি পুরস্কার লাভ করেন। কান চলচ্চিত্র উৎসব, বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ও ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন তাঁকে করেছে মহিমান্বিত। তিনি চতুর্থ ব্যক্তি ও দ্বিতীয় নারী হিসেবে এই কীর্তি গড়েন।

জুলিয়ান মুরের জন্ম ১৯৬০ সালে উত্তর ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে। মা-বাবার তিন সন্তানের মধ্যে মুর ছিলেন বড়। তাঁর বাবা আমেরিকান হলেও মা ছিলেন স্কটিশ অভিবাসী। জুলিয়ান মুর ১৯৮৩ সালে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিনয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পরপরই চলে যান নিউইয়র্কে। সেখানেই মা-বাবার দেওয়া জুলিয়ান স্মিথ নাম পরিবর্তন করে হয়ে ওঠেন জুলিয়ান মুর। বাবার বদলির চাকরি, সেই সুবাদে দশম শ্রেণি পেরোনোর আগেই ৯ বার স্কুল বদল করতে হয়েছে। এমন রোমাঞ্চকর স্কুলজীবনেও জুলিয়ান মুখ গোমড়া করে থাকতেন। কারণ, তাঁর মুখে ছিল মেছতার দাগ। স্কুলে ছেলেমেয়েরা ‘ফ্রেকেলফেস স্ট্রবেরি’ বলে খ্যাপাত তাঁকে। একসময় বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিয়েটার বিষয়ে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে কাজ নেন রেস্তোরাঁয়। তখন এক পরিচালকের নজরে আসেন এবং টিভি সিরিজ ও চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পান। তবে প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লেগেছে অনেক। দারুণ অভিনয় দক্ষতা আর পরিশ্রম দিয়ে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন আইকন। সে সময় অনেক বড় পরিচালক তাঁর অভিনয় দেখে প্রকাশ্যে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। ঘরোয়া থ্রিলার ফিল্ম দ্য হ্যান্ড দ্যাট রকস দ্য ক্র্যাডলের [১৯৯২] সহায়ক ভূমিকা মুরকে আরও বিস্তৃত করে তোলে।

১৯৯৫ সালে তিনি সেফ-এ দুর্ঘটনায় পড়া এক প্রতিবন্ধী নারীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। যেটি তাঁকে করে তোলে মহাতারকা। ২০০১ সালে তিনি এফবিআই এজেন্ট ক্লারিস স্টারলিংয়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন নব্বইয়ের সাড়া জাগানো দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বসের সিক্যুয়াল হ্যানিবলে। যেখানে তিনি খল চরিত্রে অভিনয় করে নিজের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটান। এরই মধ্যে কান উৎসবসহ বেশকিছু পুরস্কার বাগিয়ে নেন। অনেক পুরস্কারে ভূষিত হলেও সেরা অভিনেত্রীর অস্কারটাই পাওয়া হচ্ছিল না। অবশেষে ৮৭তম অস্কারে অবসান হয় তাঁর সুদীর্ঘ চাওয়া। এর আগে চারবার আর দর্শকসারিতে বসে হাততালি দিতে হলেও এবার ঠিকই মঞ্চে ওঠেন। উচ্ছল হাসিতে জানিয়ে দেন তাঁর জীবনে আর কিছু চাওয়ার নেই। অস্কার-মূর্তি হাতে নিয়ে মঞ্চে কৌতুক করার সুযোগও ছাড়েননি জুলিয়ান, ‘একটা প্রবন্ধে পড়েছিলাম, অস্কার পেলে নাকি মানুষের আয়ু বাড়ে। একাডেমি অ্যাওয়ার্ডকে ধন্যবাদ আমাকে এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য; কারণ আমার স্বামী আমার চেয়ে বয়সে ছোট!’ স্বামীর সঙ্গে আরও অনেকটা সময় কাটানোর ইচ্ছা তো জুলিয়ান করতেই পারেন।

জুলিয়ান মুর একজন সফল অভিনয়শিল্পী, সফল স্ত্রী, সফল মা। শিশুসাহিত্যিক হিসেবেও তাঁর সুনাম কম নয়। বেশকিছু শিশুতোষ বই তাঁকে সাহিত্যজগতেও প্রতিষ্ঠিত করে তোলে। তাঁর লেখা প্রথম বই-ই ছিল নিউইয়র্ক টাইমসের ‘সর্বোচ্চ বিক্রি’র তালিকায়। আর হ্যাঁ, সে বইয়ের নাম কি জানেন তো? ফ্রেকেলফেস স্ট্রবেরি! এবারের নতুন পরিচয়ে আসছেন জুলিয়ান। আসছে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারকদের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। মূল প্রতিযোগিতা শাখার প্রধান বিচারক থাকবেন তিনি। ৬২ বছর বয়সী জুলিয়ান মুরসহ সাত বিচারক মিলে স্বর্ণসিংহ জয়ী ছবি নির্বাচন করবেন। আগামী ৩১ আগস্ট ইতালির ভেনিসে শুরু হবে উৎসবটির ৭৯তম আসর। চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।